শিরোনাম
মাগুরায় আধুনিক শিল্পকলা ভবন হবে-কে এম খালিদ চাল,ডাল ও তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন মাগুরার জগদলে নির্বাচনী সহিঃসতায় ৪ জন নিহতের ঘঁটনায় এলাকায় শোকের মাতম, আটক চার জন মাগুরার কৃতি ফুটবলার ঝুকু না ফেরার দেশে মাগুরায় লকডাউন কার্যকরে জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা, ত্রানের অপেক্ষায় কয়েক শত মানুষ মাগুরায় এনটিভি’র ১৮তম প্রতিষ্টা বার্ষিকীতে মাস্ক ও গাছের চারা বিতরণ মাগুরায় চোরাই ৩টি গরু উদ্ধারসহ ৮ চোর গ্রেফতার মাগুরায় নৃশংস আজিজুর হত্যার ঘাতক আশরাফের স্বীকারউক্তিতে মাথা ও পা উদ্ধার মাগুরায় করোনা সংক্রমণ রোধে শহর ও মোহাম্মদপুরে লকডাউন মাগুরায় বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্ভোধন
সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৪:০১ পূর্বাহ্ন
add

সম্মুখ যুদ্ধে দুই ভাইসহ ৩ শহীদ-মহম্মদপুর যুদ্ধ দিবস

জালাল উদ্দিন হাককানী / ১৩৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২০
add

আপন দু্ই ভাইসহ ৩ শহীদের আত্বত্যাগের মধ্যদিয়ে ১৯ নভেম্বর মহম্মদপুর যুদ্ধ দিবস। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এদিন পাক সেনাদের সাথে মহম্মদপুরের মুক্তিযোদ্ধাদের সমুখ যুদ্ধ সংগঠিত হয়।

এ যুদ্ধে আহম্মদ হোসেন ও মহম্মদ হোসেন নামে দুই সহোদরসহ ইষ্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙ্গালী সৈনিক মহম্মদ আলী পাকিস্থানী সেনাদের গুলিতে নিহত হন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই বিরোচিত যুদ্ধ মহম্মদপুর যুদ্ধ নামে পরিচিত।

এই দিনটি মহম্মদপুর বাসীর কাছে অত্যন্ত বেদনা বিধূর। মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন ও মহম্মদপুর বাসী দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা কর্মসুচীর মাধ্যমে পালন করেন।

দৈনিক মাগুরা কন্ঠ কে মুক্তিযুদ্ধা মোঃ ওলিয়ার রহমান জানান, ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে পাকিস্থানী সেনারা স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় টিটিডিসি ভবনে (বর্তমান উপজেলা পরিষদ) ক্যাম্প স্থাপন করে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে লুটপাট ও নিরীহ মানুষের উপর নানা রকম অত্যাচার ও নির্যাতন চালায়। ওই ভবনেই তারা শক্তিশালী পর্যবেক্ষক চৌকি নির্মাণ করে।

এই ক্যাম্প দখলের লক্ষ্যে আক্রমন করার সিদ্ধান্ত নেয় মহম্মদপুরের মুক্তিযোদ্ধারা। ১৮ নভেম্বর আনুমানিক রাত একটায় উপজেলা সদর থেকে দক্ষিন পশ্চিমে ৭ কিঃমিঃ দুরে ঝামা বাজারে সমবেত হয় তারা।

আক্রমন পরিকল্পনা অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা কোমল সিদ্দিকি (বীর উত্তম) ও তার বাহিনীর ৫০ জন মক্তিযোদ্ধা টিটিডিসি ভবনের দক্ষিন কোনে, আবুল খায়ের ও নুর মোস্তফার যৌথবাহিনীর ৫৫জন মুক্তিযোদ্ধা উত্তর দিকে, বীর প্রতিক গোলাম ইয়াকুব মিয়ার নেতৃত্বে ২০৫ জন মুক্তিযোদ্ধা দক্ষিন পশ্চিমে এবং আহম্মদ হোসেনের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা উত্তর পূর্বকোনে অবস্থান নেন।

সিদ্ধান্ত ছিল কমল সিদ্দিকির বাহিনী ও ইয়াকুব হোসেনের বাহিনী আক্রমন করবে এবং অপর বাহিনী সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। কিন্তু ঝামা বাজার থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের মহম্মদপুরে আসতে বেশী দেরী হয়ে যাওয়া এবং পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী টার্গেট পূরণ করতে না পারায় ফজরের আযানের মাত্র আধা ঘন্টা আগে পাকিস্থানী সেনাক্যাম্পে মুক্তিবাহিনী আক্রমন চালায়।

দীর্ঘক্ষণ দুই পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। হানাদার বাহিনীর ব্যাপক গোলাবর্ষনের মুখে এক সময় মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটার সিদ্ধান্ত নেয়। এসময় হানাদার বাহিনীর একটি গুলি আহম্মদ হোসেনের মাথায় বিদ্ধ হয়। বড়ভাই মহম্মদ হোসেন ছোট ভাইকে বাঁচাতে ছুটে যাওয়ার প্রাক্কালে তিনিও গুলিবিদ্ধ হন। দুই ভাই পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে গড়াতে গড়াতে পুকুরের পানিতে পড়ে যান এবং সেখানেই শহীদ হন আপন দুই ভাই।

অল্প সময়ের ব্যাবধানে শহীদ হন ইষ্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙ্গাালী সৈনীক মহম্মদ আলী। এই দুই শহীদ সহোদর আহম্মদ ও মহম্মদ এবং মহম্মদ আলীকে উপজেলার নাগড়িপাড়া গ্রামে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

তাদের স্মৃতি চারণে মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ মহম্মদপুর উপজেলা সদরে শহীদ আহম্মদ-মহম্মদ নামে একটি মার্কেট এবং উপজেলা সদর থেকে নাগড়িপাড়া অভিমূখি সড়কটি আহম্মদ-মহম্মদ নামকরণ করেছেন। এছাড়া তাদের উপজেলা সদরে তাদের একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে।

শোক ও গৌরবের এই দিনটি সরকারি ভাবে মহম্মদপুর যুদ্ধ দিবস ঘোষনার দাবী জানিয়ে আসছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!