শিরোনাম
মাগুরা দ্বারিয়াপুর দরবার শরীফে ৮৯ তম বার্ষিক ইসালে সওয়াব অনুষ্টিত মাগুরায় ভূমি কর্মকর্তাদের ছয় দফা দাবীতে মিছিল, স্মারক লিপি প্রদান মাগুরায় প্রেমিক প্রেমিকা গলায় ফাসঁ লাগিয়ে আত্বহত্যা করেছে মাগুরা’র ঐতিহ্যবাহী থিয়েটার ইউনিট-২৬ তম বর্ষে মাগুরায় ক্রিড়া, সাংস্কৃতিক ও কৃষি দপ্তরে জেলা পরিষদের উপকরণ বিতরণ মাগুরায় “গল্পটা আমাদের” নাটকের তিনটি প্রদর্শনী করেছে থিয়েটার ইউনিট জমকালো আয়োজনে ৭ ডিসেম্বর মাগুরা মুক্ত দিবস উদযাপন মাগুরায় ৩৩৩ জন গ্রাম পুলিশকে বাইসাইকেল প্রদান মাগুরায় স্থানীয় ভাবে উদ্ভাবিত লাগসই প্রযুক্তির প্রদর্শনী ও মেলা অনুষ্ঠিত আজ ঐতিহাসিক কামান্না দিবস- ২৭ শহীদের কথা
বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:২৭ অপরাহ্ন
add

রিকশাওয়ালা ——–মোঃ রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ

মোঃ রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ / ৬১৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০
add

জগতটা আত্মতুষ্টির জন্য নয়, মানুষ পরিশ্রম করে দু মুঠো খাবারের জন্য। তার যে প্রেষণা থাকে তা তাকে তাড়িত করে। একের পর এক চাহিদা পুরণ হলে- তারপর জাগে তার অন্য চাহিদা।

খাবারের ব্যবস্থা হলে তার ভালো পোশাক, বাসস্থান, যানবাহন, যান্ত্রিকতা, শিক্ষা, চিকিৎসা সহ নানাবিধ চাহিদা বাড়বে। কিন্তু যদি অর্থ অভাব থাকে তাহলে জীবন হয় বিভিষিকাময়।।

আমি আজ রিকশাওয়ালার জীবনের করুণ কাহিনী উপস্থাপন করিতে চাই পাঠকের সামনে।

একজন রিকশাওয়ালা সমাজের সামান্যতম একজন মানুষ।
এই উচু সমাজের ধন্যঢ্য পুজিবাদী বিশ্বে রিকশাওয়ালাদের নিয়ে ভাববার মত অবকাশ কারো নাই।

আমি রিয়াজ নিতান্তই ভবঘুরে বেকার। তাই এই ছবিতে নিজেই রিকশাওয়ালার বেশে ছবি দিয়েছি।

কারণ আমি শ্রমজীবী মানুষদেরকে ভালোবাসি।
আমি তাদেরকে সম্মান করি। এই শ্রমিকদের শ্রমের মহা সামগ্রিক ফলাফল আজকের উন্নত সভ্যতা। আমাদের মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষগুলি সিনেমার নায়কদেরকেই মনে রাখে কিন্তু এর নির্মাতাকে কেউ চিনেও না।

সবাই গ্রিক বীর আলেকজান্ডারকে চিনে কিন্তু তার হাজার হাজার মানুষের সমন্বয়ে সেনাবাহিনীর যোদ্ধাদের কেউ চিনে না।

তাজ মহলের জন্য শাহজাহান কে চিনলেও তার পরের ইতিহাস খুব খারাপ কেউ জানে না। নকশাকারদের হাতের আঙুল কেটে দিয়েছিল তাদের।

তেমনি এই রিকশার মানুষদেরকে কেউ কখনো মনে রাখেনা, কোন বড় অনুষ্ঠানে দাওয়াত করেনা।

যে মানুষটা নিজের আদরের বউয়ের সামনে নিতান্ত নেড়ি কুকুরের মত ঘেউ ঘেউ করে সে মানুষটিও রিকশাওয়ালার সামনে একজন মহাবীর রুস্তম!

১৩ টাকার ব্যান্সন টানিতে টানিতে নেশাখোর ছেলাটাও রিকশাওয়ালার গায়ে হাত তোলে।

একজনের সাথে ভাড়া নিয়ে বাধিলে দল বেধে রিকশার মানুষটার গায়ে হাত তোলার ভেতর একটা নষ্ট আনন্দ আছে।

কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন একাগ্রতা নিয়ে ?

আপনার ২/৫ টাকার জন্য মারা চড় থাপ্পড়ে মানুষটার মনে কত বড় প্রভাব পড়ে তার হয়ত সেদিন আর রিকশা চালানো হবে না।

ঘরে চাল ডাল, মাছ মাংস তাদের থাকেনা। তাদের ঘরে আপনার মত ফ্রীজ ভরা খাদ্য সামগ্রী থাকে না। যার গালে থাপ্পড় মারলেন তিনিও কারো বাবা, পতি, ভাই,ছেলে,পরিবারের প্রধান।

তার শরীরেও রক্ত মাংস। আপনার আমার থেকে খাটি সত্যই ভরা তার বিশাল মন। হয়ত আমি আপনি তার মুল্যায়ন করিনা।

আমি আপনি এই সমাজের উচু তলায় বসে কলমের খোচায় পুকুর চুরি করে রাষ্ট্রের ধন সম্পদ বোয়াল মাছের মত গোগ্রাসে গিলছি।

অথচ এরা খোদার ভয়ে যাত্রীদের মালামাল ফেরত দিতে পথে বসে থাকে বিনিদ্র রাতভর।

আপনি কখনো কি ভেবেছেন?
যদি আপনার জন্ম সোনার চামুচ গালে না নিয়ে বেদের ঘরে হত তাহলে এই সাহেব না হয়ে আজ হয়ত সাপ খেলা, বানর খেলা দেখাতেন।

কিসের এত অহংকার? আজ মরিলে কাল দুইদিন। জয় হোক শ্রমজীবীদের।

—— লেখক ও সাহিত্যিক রিয়াজ।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!