শিরোনাম
মাগুরায় আধুনিক শিল্পকলা ভবন হবে-কে এম খালিদ চাল,ডাল ও তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন মাগুরার জগদলে নির্বাচনী সহিঃসতায় ৪ জন নিহতের ঘঁটনায় এলাকায় শোকের মাতম, আটক চার জন মাগুরার কৃতি ফুটবলার ঝুকু না ফেরার দেশে মাগুরায় লকডাউন কার্যকরে জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা, ত্রানের অপেক্ষায় কয়েক শত মানুষ মাগুরায় এনটিভি’র ১৮তম প্রতিষ্টা বার্ষিকীতে মাস্ক ও গাছের চারা বিতরণ মাগুরায় চোরাই ৩টি গরু উদ্ধারসহ ৮ চোর গ্রেফতার মাগুরায় নৃশংস আজিজুর হত্যার ঘাতক আশরাফের স্বীকারউক্তিতে মাথা ও পা উদ্ধার মাগুরায় করোনা সংক্রমণ রোধে শহর ও মোহাম্মদপুরে লকডাউন মাগুরায় বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্ভোধন
সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন
add

মাগুরায় দুটি খুনের ঘটনায় ভাংচুর লুটপাট, হামলা-মামলা ভয়ে পুরুষ শূন্য গ্রাম, চরম আতংক

বিশেষ প্রতিনিধি :- / ৩০৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২০
add

দুটি খুনের জের ধরে নন্দলালপুর ও ছাচানী গ্রামে চলছে বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাট হামলা-মামলার ভয়ে বাড়ি ছাড়া পুরুষেরা, চরম আংতকে দিন কাটছে নারীদের।

মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর ইউনিয়নের সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যান এর সামাজিক বিরোধ নিয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে দু’টি হত্যাকান্ডের জের ধরে নন্দলালপুর ও ছাচানী গ্রামে অব্যাহত ভাবে চলছে বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাটের ঘটনা। লুটপাটকারীরা প্রতিপক্ষের বাড়িতে থাকা সকল মালামাল, গরু, ছাগল, গবাদী পশু লুটপাটের পাশাপাশি শত-শত ফলবান বৃক্ষ পর্যন্ত কেটে ফেলছে।

হামলা-মামলার ভয়ে পুরুষেরা গ্রাম ছেড়েছে। বাড়ির নারী সদস্যদের দিন কাটছে নিরাপত্তাহীনতায়। সব মিলিয়ে গ্রাম দুটিতে বিরাজ করছে চরম আতংক।

মাগুরা পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান- দৈনিক মাগুরা কন্ঠ কে বলেন, নন্দলালপুর ও ছাচানী গ্রাম দুইটিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে শান্তিপুর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে।নিয়মিত পুলিশ টহল রয়েছে।

আধিপত্য নিয়ে হাজরাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বর্তমান সদর থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মা্ন্নান এবং বর্তমান অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জেলা যুবলীগ নেতা কবির হোসেন এর সর্মথকদের পৃথক দুটি সামাজিক গ্রুপ বিদ্যমান রয়েছে। তাদের বিরোধ রাজনৈতিক ভাবে নেতৃবৃন্দ সমাধানের চেষ্টা করছেন।

নন্দলালপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও সামাজিক দলাদলি নিয়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা শরিফুল মোল্লা ও জাকির হোসেন লিটনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জের ধরে গত ১৬ নভেম্বর রাতে প্রতিপক্ষ শরিফুল মোল্যার লোকজন কুপিয়ে হত্যা করে জাকির হোসেন লিটনকে।

এ হত্যাকান্ডের পর থেকে হামলা-মামলার ভয়ে শরিফুল মোল্লার সমর্থকেরা গ্রাম ছেড়েছে। এ সুযোগে প্রতিপক্ষের সমর্থকরা এ গ্রামের ২৫ থেকে ৩০ টি বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। বাড়ির সকল মালামালের পাশাপাশি লুট হয়ে গেছে গরু, ছাগল পর্যন্ত। এখনো ভাংচুর লুপপাট অব্যাহত থাকায় বাড়ির নারী ও শিশুদের দিন কাটছে চরম আতংকে।

নন্দলালপুর গ্রামের সঞ্জু ও রঞ্জুর রহমানের মা আমেনা বেগম বলেন, তারা সামাজিক দলের সাথে থাকলেও তার ছেলেরা মারামারি খুনো খুনির সাথে জড়িত নয়। তার পরেও লিটন খুনের পর ভয়ে তার ছেলেরা হামলা, মামলার ফলে বাড়ি ছেড়েছে। এ সুযোগে প্রতিপক্ষ দলের লোকেরা দিনে দুপুরে তার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। তার গোয়াল থেকে নয়টি গরু ও ১০ টি ছাগল লুট হয়েছে। বাড়িঘর ভাংচুর করেছে।

তবে নিহত লিটনের এক চাচাতো ভাই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আওয়ামীলীগ করলেও শরিফুল এলাকার দুর্ধষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। এর আগে শরিফুর তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে লিটনের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট চালিয়েছে। এলাকার অনেক মানুষ নানাভাবে তার অত্যার, নির্যাতনের শিকার।

এদিকে গত ১লা নভেম্বর একই ইউনিয়ের ছাচানী গ্রামে মাছুদ মোল্লা নামে অপর এক আওয়ামীলীগ কর্মীকে প্রতিপক্ষরা কুপিয়ে হত্যা করে। হাজরাপুর ইউনিয়নের এক নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক বারিক মোল্লা ও একই ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর আবু কালামের মধ্যে সামাজিক রিরোধের জের ধরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত মাছুদ মোল্লা বারিক মোল্লার সমর্থক।

এ হত্যাকান্ডের পর থেকে ছাচানী গ্রামে চলে আসছে ব্যাপক বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট। বারিক মোল্লার সমর্থকেরা প্রতিপক্ষ আবু কালামসহ তার সমর্থকরে বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর লুটপাট চালায়। আবু কালামের পাকা বাড়ি ভাংচুর কারে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে। অধিকাংশ বাড়ির গরু, ছাগল লুট হয়েছে। বিশেষ করে তারা আবু কালামসহ তাদের সমর্থকদের কয়েক শত লিচুগাছসহ বিভিন্ন ফলের গাছ কেটে ফেলেছে।

বর্তমানে হামলা-মামলার ভয়ে এ গ্রামের আবু কালাম সমর্থক পুরুষ সদস্যরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। যে কারনে নারী সদস্যদের দিন কাটলেও; রাত কাটছে চরম নিরাপত্তাহীনতায়।

ছাচানী গ্রামের বাদশা মিয়ার স্ত্রী জাকেরা বেগম বলেন, মাছুদ হত্যার জের ধরে প্রতিপক্ষরা তার বাড়ি পাচটি ঘর ভাংচুর করে, সব মালামাল লুট করেছে। বাথরুমে যাওয়া ও ওজু করার বদনা পর্যন্ত নিয়ে গেছে। তার ও আবু কালামের কয়েক শত’ লিচু গাছ করাত দিয়ে কেটে ফেলেছে।

পুরুষরা হামলা-মামলার ভয়ে বাড়ি উঠতে পারছে না। যে কারনে তারা নারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। কারণ প্রতিপক্ষরা নারীদের হুমকি দিয়েছেন বাড়ি না ছাড়লে গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হবে। বাড়ি না ছাড়লে ইজ্জত নেওয়া হবে।

যে কারনে রাতে তারা রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে বের হতে সাহন করেন না। সব সময় বিপক্ষ দলীয় লোকজন তাদের বাড়িঘর নজরদারীতে রেখেছে।

তবে প্রতিপক্ষ নিহত মাছুদের বাবা দাউদ মোল্লা বলছেন, আবু কালাম ও তার ছেলেরা এলাকায় নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। তারা শুধু তার ছেলে মাছুদকে কুপিয়ে হত্যা করে থেমে থাকেনি। তারা গ্রামে লুপপাট চালিয়ে তাদের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছে।তবে ভাংচুর ও লুটের মামলা নিচ্ছে না থানা পুলিশ।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয়নাল আবেদিন জানান, দুটি হত্যা এবং একটি ভাংচুর ‍লুটের মামলায় প্রায় অর্ধশত জন আসামী করা হয়েছে।

প্রশাসনিক কঠোর হস্তক্ষেপ ও রাজনৈতিক সমজোতায় দ্রুত এই গ্রামীন জনপদের সামাজিক দলাদলি এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দির্ঘ্য দিন চলে আসা  সংঘর্ষ, হত্যা, হামলা, বাড়িঘর ভাংচুর লুটপাট বন্ধ করে শান্তিপূর্ন বসবাসের নিশ্চয়তা চায় সাধারণ মানুষ।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!