শিরোনাম
মাগুরায় আধুনিক শিল্পকলা ভবন হবে-কে এম খালিদ চাল,ডাল ও তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন মাগুরার জগদলে নির্বাচনী সহিঃসতায় ৪ জন নিহতের ঘঁটনায় এলাকায় শোকের মাতম, আটক চার জন মাগুরার কৃতি ফুটবলার ঝুকু না ফেরার দেশে মাগুরায় লকডাউন কার্যকরে জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা, ত্রানের অপেক্ষায় কয়েক শত মানুষ মাগুরায় এনটিভি’র ১৮তম প্রতিষ্টা বার্ষিকীতে মাস্ক ও গাছের চারা বিতরণ মাগুরায় চোরাই ৩টি গরু উদ্ধারসহ ৮ চোর গ্রেফতার মাগুরায় নৃশংস আজিজুর হত্যার ঘাতক আশরাফের স্বীকারউক্তিতে মাথা ও পা উদ্ধার মাগুরায় করোনা সংক্রমণ রোধে শহর ও মোহাম্মদপুরে লকডাউন মাগুরায় বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্ভোধন
সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন
add

তোমার আমার এক যুগ (প্রথম পর্ব)–হুমায়ন ইবনে বাবর

হুমায়ন ইবনে বাবর / ৩২৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০
add

তাকে আমার প্রথম দেখা কোন একটা নাচের প্রোগ্রামে।ঐ দিন সে বাংলা লোক গানের সাথে নেচেছিলো। সে সময় বয়স তার বেশি নয়, আট-নয় বছর হবে। কিন্তু তার নাচ মনে রাখার মতো!
তখন কে জানত, আরও আট-নয় বছর পরে সে আমার জীবন সাথী হবে! আমি তখন সবে কলেজে ভর্তি হয়েছি। পড়া-শোনার চেয়ে গান-বাজনা আর লেখা-লেখিতেই মন বেশি। ছোট-খাট দু-একটি অনুষ্ঠানে সুযোগ পেলে গান-টান গাই। কিন্তু সে ছোট হলে কি হবে, এ বয়সেই হাকিয়ে দিয়েছে জাতীয় পুরস্কার!
অনেক অনুষ্ঠানে দেখা হয়, কথা হয় না। কারণ এটা তার গাল টিপে আদর করার বয়স। আরো সময় গড়িয়ে পেরিয়ে যায় বছর তিন-চার। সময় টা ২০০১ এর কোন এক হেমন্ত বিকেল! পারিবারিক একটি বিয়োগান্তক ঘটনায় মন যারপর নাই বিষন্ন! প্রিয় আঙিনা, জেলা শিল্প কলার পশ্চিম পাশের কক্ষে একাকী বসে মান্না দে গাইছিলাম-“কী নামে তোমায় বল ডাকি।”
হটাৎ রাজকীয় ভংগিমায় মায়ের সাথে তিনি প্রবেশ করলেন। আমি গান না থামিয়েই ছোট মুচকি হাসিতে কুশল বিনিময় সারলাম। আরও কিছু মান্না দে গাইলাম। আসলে মান্না দে গাইতে শুরু করলে একটি দুটি গান গেয়ে মন ভরে না, আর যারা শোনেন তাদেরও ঠিক পিয়াস মেটেনা।
যাইহোক, আমি গেয়েই চলেছি, হঠাৎ জননী আমাকে থামিয়ে দিয়ে কথা বলতে শুরু করলেন-“তুমি তো দেখি ভালোই গাও! রেডিও টিভিতে গাও না কেন?” আমি তো একেবারে কাচুমাচু বিনয়ী ভংগীতে বললাম, কী বলেন আন্টি! আমি তো এখনো ঠিক মতো তালেই গাইতে পারি না। কেবল শিখছি!
তারপর অনেক অনেক অনেক কথা! কথা আর ফুরোয় না। যারা আমার শাশুড়ী কে চেনেন তারা নিশ্চয়ই জানেন, আমি একটু ও বেশি বলছি না। অবশেষে তিনি আমাকে অনুরোধ করলেন তার মেয়ে কে একটু তালিম দিতে। আমি একরাশ দ্বিধা সংকোচ নিয়ে তাকে বললাম, আন্টি, আমি নিজেই ঠিক মতো গাইতে পারি না, ওকে আমি কিভাবে শিখাবো!
সে নাছোড় বান্দা! আমি নিরুপায় হয়ে বললাম আচ্ছা, ভেবে দেখি, বলে তাড়াতাড়ি বিদায় নিয়ে বেরিয়ে এলাম। বাইরে তখন রাত নেমে এসেছে। একটু শীত শীত ও মনে হলো লাগছে। আমি দ্রুত পায়ে হেঁটে রবিউলের চায়ের দোকানে এসে বললাম চা দিতে। চা খেয়ে শীতের কুয়াশায় হারিয়ে গেলাম!
মাস ছয়েক পেরিয়ে গেছে। আর দেখা সাক্ষাৎ নেই।হঠাৎ একদিন শিল্পকলার বারান্দায় দেখা। আমাকে দেখেই হনহন করে আন্টি কাছে চলে এলেন- তুমি তো খুবই অহংকারী! ছয় মাস লাপাত্তা হয়ে গেলে। বলেছিলাম ওকে একটু দেখিয়ে দিতে। আর তোমার কোন খবর নেই। আমাকে কোন কথা বলার সুযোগই দিলেন না। উনি বলেই চলেছেন। আমি ভেবেছিলাম নিশ্চয়ই ভুলে গেছে!
কিন্তু না, উনি আরও রেগে আছেন আমার উপর। আপাতত বাঁচার জন্য হলেও বললাম আচ্ছা! তাছাড়া উনার আমাকে উদ্দেশ্য করে বলা “অহংকারী” কথা টা আমার পছন্দ হলো না। আমি ঐ শব্দটা কে মিথ্যে প্রমাণ করার জন্য একপ্রকার রাজি হলাম। বললাম, ঠিক আছে আপনি বাসায় জান, আমি আসবো। উনি বললেন আসবো নয়, আজই আসতে হবে। আমি বললাম, ঠিক আছে, আমি সন্ধ্যায় আসবো। উনি মেয়েকে নিয়ে চলে গেলেন।
আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম। মাথায় টেনশান কাজ করতে লাগলো। কারণ, আমার নিজেরই কোন গুরু নেই। শিখিনি কিছু, কোন রকম নিজেনিজে চেষ্টা করে গাই! একটা ই ভরসা, গান খুব ভালো করে তুলতে পারি। যে কোন গান বাজাতেও পারি ভালো করে। কিন্তু এটা তো গুরু মুখি বিদ্যা, গুরু ছাড়া সঠিক হয় না। শিক্ষাও পরিপূর্ণ হয়না।
যাইহোক, দ্বিধা-জড়তা নিয়ে সন্ধ্যায় উনার বাসায় গেলাম। আমার নতুন ছাত্রীই গেট খুলে দিল। আমি ভিতরে গিয়ে বসলাম। শরমে মরে যেতে লাগলাম! আমি এসেছি গান শেখাতে যে নিজেই জানেনা কিছু!
অবশেষে বসলাম আমার ছাত্রী কে নিয়ে। কিছুক্ষণ সারগাম করলাম। তারপর যে সমস্ত গান তার তোলা ছিলো সে গুলো ঠিক আছে কি না এক এক করে দেখতে লাগলাম। আমি চমৎকৃত হলাম তার ট্যালেন্ট দেখে। একবার দেখিয়ে দিলেই যে কোন কিছু সে বুঝে ফেলে। বেশি কষ্ট করতে হয় না।
আমার মনে হয়, আমি প্রথম তার ট্যালেন্ট এর প্রেমেই পড়েছিলাম! শুরু হলো গান শেখা, আমি তাকে কী শেখাবো, তার কাছ থেকেই আমি তাল, লয় শিখতে লাগলাম। আমি শুধু তাকে গান টা ঠিক করে তুলে দিতাম! এভাবে কাটলো আরও বছর দুই।
অনেক প্রতিযোগিতা, অনেক পুরস্কার! আমি বলেছিলাম কাউকে না বলতে যে আমি শেখায়। নাচের পাশাপাশি সে তখন গানেও প্রথম হতে লাগলো। আমাদের সম্পর্ক এতো দিনে অনেক সহজ আর সুন্দর হয়েছে।
আমার তখন “ব্রেক অব স্টাডি” চলছিল। আন্টি আর ওর উৎসাহে আবার পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলাম এবং পরীক্ষা দিলাম। রেজাল্ট যে-দিন বেরহলো আমরা সেদিন একটা প্রোগ্রামে ছিলাম। ও ছিলো সেই প্রোগ্রামে। ফিরে আসার সময় বেশখানিকটা রাত হয়ে গিয়েছিল। লিখছি…(দ্বিতীয় পর্বে চোখ রাখুন)

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!